যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক তাঁর মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইকে একীভূত করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলাই এই একীভবনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই একীভবনের ঘোষণা দেন মাস্ক। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের ফলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা পৃথিবীতে টেকসইভাবে নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মাস্কের ভাষায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনায় যে পরিমাণ শক্তি দরকার, তা পৃথিবীতে উৎপাদন করলে পরিবেশ ও জনপদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। তাই দীর্ঘমেয়াদে সৌরশক্তিনির্ভর মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারই একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান।
তিনি বলেন, সূর্যের শক্তির অতি সামান্য অংশ ব্যবহার করলেও তা বর্তমান মানবসভ্যতার মোট শক্তি ব্যবহারের চেয়ে বহু গুণ বেশি। এই বিপুল শক্তির উৎস কাজে লাগাতে হলে ডেটা সেন্টারসহ ভারী অবকাঠামোকে মহাকাশে স্থানান্তর করাই যৌক্তিক পথ।
মাস্কের দাবি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য সবচেয়ে কম খরচে কম্পিউটিং সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব হবে মহাকাশে।
এই একীভবনের ফলে মাস্কের বিভিন্ন উদ্যোগ—মহাকাশযান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—একটি কাঠামোর আওতায় আসছে। স্পেসএক্স বর্তমানে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি পরিচালনা করছে, আর এক্সএআই পরিচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গ্রোক চ্যাটবট তৈরির জন্য।
গত বছর এক্সএআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অধিগ্রহণ করে, যা আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল এবং ২০২২ সালের শেষ দিকে মাস্কের মালিকানায় আসে।
স্পেসএক্স ও এক্সএআই—উভয় প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা সংস্থা। স্পেসএক্সের স্টারশিল্ড ইউনিট বিশেষভাবে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তি সংকট মোকাবিলায় মহাকাশের দিকে তাকানোয় মাস্ক একা নন। অন্যান্য প্রযুক্তি উদ্যোক্তারাও সৌরশক্তিনির্ভর মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার নিয়ে কাজ করছেন।
মাস্ক বলেন, মহাকাশে স্থায়ী ডেটা সেন্টার, চাঁদে ঘাঁটি বা মঙ্গলগ্রহে শহর গড়তে যে পরিমাণ ভারী উপকরণ পাঠাতে হবে, তা বহনে সক্ষম কোনো যান এখনো ইতিহাসে দেখা যায়নি। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই স্টারশিপ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাস্ক জানিয়েছেন, স্পেসএক্স একসময় এক মিলিয়ন কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে উড়াল দিয়ে দুই শ টন পর্যন্ত পণ্য মহাকাশে পাঠানোর সক্ষমতা অর্জন করাই স্টারশিপের উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জানান, স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবায় শিগগিরই বড় ধরনের উন্নতি আসবে। নতুন প্রজন্মের ভি থ্রি উপগ্রহগুলো বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় বিশ গুণেরও বেশি সক্ষমতা যোগ করবে।
















