অভিযুক্ত র্যাব কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ কেন নয়—জানতে চাইলেন আদালত
২০১১ সালে র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনের দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত র্যাব কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। রোববার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেনসহ একদল আইনজীবী।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জমাদ্দারহাটে র্যাবের অভিযানের সময় ১৬ বছর বয়সী লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। লিমনের অভিযোগ, র্যাব সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পায়ে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তার বাঁ পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এইচএসসি পরীক্ষার মাত্র ১২ দিন আগে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় লিমনের শিক্ষাজীবন সাময়িকভাবে থমকে গেলেও তিনি হার মানেননি।
দরিদ্র ও প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে আসা লিমন পরবর্তীতে সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ন্যায়বিচারের আশায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া লিমনের এই রিট আবেদনটি ছিল অভিযুক্তদের শাস্তি এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ। হাইকোর্টের এই রুলের মাধ্যমে লিমনের দীর্ঘদিনের বিচার পাওয়ার লড়াইয়ে নতুন গতির সঞ্চার হলো।
















