যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত ওঠানামা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ২০২৬ সালজুড়ে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন বৈশ্বিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। জাপান থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত একের পর এক ভোট বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এই সপ্তাহান্তে জাপানে অনুষ্ঠেয় আকস্মিক নির্বাচন সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে অনিশ্চিতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশে ভোট হবে, যা অঞ্চলটির ডানমুখী রাজনৈতিক প্রবণতা টিকে থাকবে কি না, তা যাচাই করবে।
জাপান
৮ ফেব্রুয়ারি জাপানের আকস্মিক নির্বাচন বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত উন্নত অর্থনীতির দেশটিতে রাজস্ব ব্যয়ের দরজা আরও খুলে দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যয়বহুল অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে সমর্থন বাড়াতে চান। সাম্প্রতিক জরিপে তাঁর জনপ্রিয়তায় সামান্য ভাটা পড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, দেশটির সরকারি বন্ডের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে এবং এ বছর দশ বছর মেয়াদি সুদের হার তিন শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
কলম্বিয়া
মার্চ থেকে শুরু করে কলম্বিয়ায় একাধিক ধাপে সংসদ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মেয়াদ শেষে নতুন নেতৃত্ব আসবে। গত বছর দেশটির শেয়ারবাজার অঞ্চলটির অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভালো করলেও বন্ড বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ডানমুখী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে অর্থনৈতিক নীতিতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে।
হাঙ্গেরি
এপ্রিলে হাঙ্গেরিতে নির্বাচন দেশটির বিরোধীদের জন্য দীর্ঘদিন পর বড় সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে কেন্দ্র-ডান দল এগিয়ে আছে বলে জরিপে দেখা যাচ্ছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে আর্থিক ছাড়ের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে, যা রেটিং সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
যুক্তরাজ্য
মে মাসে স্থানীয় নির্বাচন হলেও এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে পারে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি জরিপে পিছিয়ে রয়েছে। আর্থিক কড়াকড়ির নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিলে বন্ডবাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক নজর রাখছেন।
ইথিওপিয়া ও জাম্বিয়া
ঋণখেলাপি অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা ইথিওপিয়া ও জাম্বিয়ায় গ্রীষ্মকালে নির্বাচন হবে। ইথিওপিয়ায় ক্ষমতাসীন দল সহজ জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাম্বিয়ায় বর্তমান প্রেসিডেন্টের জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি না হওয়ায় ঝুঁকি রয়ে গেছে। সীমান্তবর্তী বাজারে সুযোগ খোঁজা বিনিয়োগকারীরা দুই দেশকেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
ব্রাজিল
অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জরিপে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এগিয়ে থাকলেও তাঁর সম্ভাব্য জয় নিয়ে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর আরেক মেয়াদে বাজেট ঘাটতি ও ঋণের চাপ বাড়তে পারে। তবে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব হিসেবে তাঁকে পূর্বপরিচিত ও বাস্তববাদী বলেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণ হবে এই ভোটে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। জরিপে অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলছে। ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ফল খারাপ হওয়ার প্রবণতা থাকায় বাজারও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক দেশের এই নির্বাচনী বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারে বাড়তি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। নীতিগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।















