কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী লরা ফার্নান্দেজ বিজয় ঘোষণা করেছেন। প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর পরাজয় স্বীকারের পর তিনি রাজধানী সান হোসেতে সমর্থকদের সামনে এ ঘোষণা দেন।
সুপ্রিম নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, ৮১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল গণনা শেষে সার্বভৌম জনগণের দল-এর প্রার্থী লরা ফার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। এই ফলের ভিত্তিতে তিনি সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করেন এবং দ্বিতীয় দফার ভোট এড়াতে সক্ষম হন।
বিজয় ভাষণে ফার্নান্দেজ বলেন, দেশ এক নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করছে এবং গভীর ও অপরিবর্তনীয় পরিবর্তনের পথে হাঁটবে। তিনি জানান, ১৯৪৮ সালের গৃহযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের অধ্যায় শেষ হয়েছে, এখন তৃতীয় প্রজাতন্ত্র গড়ার দায়িত্ব জনগণের।
৩৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিক আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দৃঢ় রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, যেসব আইন অকার্যকর, পুরোনো বা উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেগুলো সংশোধন বা বাতিল করা হবে।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় মুক্তি দলের অর্থনীতিবিদ আলভারো রামোস পেয়েছেন ৩৩ শতাংশ ভোট। তিনি রোববার রাতেই পরাজয় স্বীকার করে গঠনমূলক বিরোধী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন। তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন প্রগতিশীল স্থপতি ও সাবেক ফার্স্ট লেডি ক্লদিয়া দোব্লেস, যিনি প্রায় ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
লরা ফার্নান্দেজ বর্তমান প্রেসিডেন্ট রোদ্রিগো চাভেসের মনোনীত উত্তরসূরি। নির্বাচনী প্রচারে তিনি কঠোর নিরাপত্তা নীতির ধারাবাহিকতার কথা বলেন। তার অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী একটি বৃহৎ কারাগার প্রকল্প সম্পন্ন করা, বাধ্যতামূলক কারাগার শ্রম এবং কঠোর শাস্তি নীতি চালু করা।
নির্বাচন চলাকালে নিরাপত্তা ছিল সবচেয়ে বড় ইস্যু। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল ব্যাপক। বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে কঠোর নিরাপত্তা নীতি গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। তবে বিজয় ভাষণে ফার্নান্দেজ বলেন, তার সরকার গণতান্ত্রিক থাকবে এবং কখনো স্বৈরতান্ত্রিক পথে যাবে না।
একই দিনে কোস্টারিকার ৫৭ আসনের জাতীয় সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ফার্নান্দেজের দল প্রায় ৩০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করলেও বিশেষ ক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
রোববারের নির্বাচনে প্রায় ৩৭ লাখ ভোটার অংশ নেওয়ার যোগ্য ছিলেন।
















