ডিজিএফআই কর্মকর্তা মকছুরুলকে চিনে ফেলেছিলেন যমটুপির ফাঁক দিয়ে
আট বছরের বন্দিজীবনে ২৯০৮ দিন আকাশ দেখেননি সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা; বর্ণনা করলেন অমানবিক নির্যাতনের চিত্র।
গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। জবানবন্দিতে তিনি তুলে ধরেন ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছরের বন্দিজীবনের পৈশাচিক অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান, অপহরণের সময় যমটুপি পরানোর পর চোখের বাঁধন কিছুটা আলগা হয়ে গেলে তিনি ডিজিএফআই কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মকছুরুলকে চিনতে পেরেছিলেন।
আযমী ট্রাইব্যুনালকে জানান, কচুক্ষেতের ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের ‘জেআইসি’ বা আয়নাঘরে তাকে রাখা হয়েছিল ১১ নম্বর ভিআইপি সেলে। ১৯৮২ সালে ওই এলাকায় চাকরির অভিজ্ঞতা থাকায় বাইরের আজান, ট্রেনের শব্দ এবং এমওডিসি সিপাহিদের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন। বন্দিদশায় তার ওপর চালানো হয়েছে নজিরবিহীন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। বাইরের কোনো আওয়াজ যেন ভেতরে না ঢোকে এবং ভেতরের কান্নার শব্দ যেন বাইরে না যায়, সেজন্য ২৪ ঘণ্টা উচ্চশব্দের যন্ত্র চালিয়ে রাখা হতো।
দীর্ঘ আট বছরে তিনি একবারের জন্যও সূর্যের আলো বা আকাশ দেখার সুযোগ পাননি। সেলের ভেতর নিম্নমানের খাবার, চিকিৎসার অভাব এবং শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে তিনি কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে যান। চোখ বেঁধে রাখার ফলে তার মুখে ঘা হয়ে গিয়েছিল এবং তীব্র কিডনি জটিলতা ও দন্তক্ষয়ে ভুগেছেন তিনি। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্তি পান। গতকাল তার জবানবন্দি আংশিক শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ আজ পেশ করার কথা রয়েছে।














