যুক্তরাষ্ট্রের মৃত অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের এক সহযোগীর পাঠানো ইমেইলে লিবিয়ার জব্দ রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রবেশের পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে। সদ্য প্রকাশিত একটি নথিতে এ সংক্রান্ত আর্থিক ও আইনি সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যে নথিগুলো প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে থাকা ওই ইমেইলটি ২০১১ সালে এপস্টেইনের কাছে পাঠানো হয়। ইমেইলে তৎকালীন লিবিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ওই সময় আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের লিবিয়ান সম্পদ জব্দ ছিল, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আটকে রাখা হয়। ইমেইলে দাবি করা হয়, প্রকৃত অঙ্কটি এর তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত হতে পারে, যা সার্বভৌম তহবিল, চুরি হওয়া ও অপব্যবহৃত সম্পদের সঙ্গে জড়িত।
ইমেইলে বলা হয়েছে, যদি এই অর্থের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ শনাক্ত বা উদ্ধার করা যায় এবং তার বিনিময়ে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, তাহলে তা বিলিয়ন ডলারের সমান হবে।
এই ইমেইলটি পাঠানো হয়েছিল ন্যাটো সমর্থিত বিদ্রোহ শুরু হওয়ার কয়েক মাস পর, যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়। ওই বছরই অক্টোবরে লিবিয়ান বিদ্রোহীদের হাতে গাদ্দাফি নিহত হন।
ইমেইলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটেনের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ এবং ইসরায়েলের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কিছু সদস্য জব্দ সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
এছাড়া ভবিষ্যতে লিবিয়ার পুনর্গঠন ও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে বলে ধারণার কথাও ইমেইলে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, যদি সংশ্লিষ্টরা এই প্রক্রিয়ায় প্রধান পরামর্শদাতা হতে পারেন, তবে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় সুযোগ।
ইমেইলে লিবিয়ার বিপুল জ্বালানি সম্পদ ও তুলনামূলকভাবে উচ্চ সাক্ষরতার হারকেও সম্ভাবনাময় দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা আর্থিক ও আইনি উদ্যোগে সহায়ক হতে পারে।
নথিতে আরও বলা হয়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক কয়েকটি আইন সংস্থার সঙ্গে সাফল্যনির্ভর পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
















