সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ফ্লু বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগ ছড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রমণ ঘটাতে পারেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফুসফুসের গঠন থেকে শুরু করে কথা বলার ধরন পর্যন্ত নানা বিষয় কাউকে সুপারস্প্রেডারে পরিণত করতে পারে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবে সাধারণত অল্পসংখ্যক মানুষই অধিকাংশ সংক্রমণের জন্য দায়ী। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মোট আক্রান্ত মানুষের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রায় চার-পঞ্চমাংশ সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়। এর অন্যতম কারণ হলো শরীরে ভাইরাসের পরিমাণে বিশাল পার্থক্য। কারও শ্বাসনালির তরলে অন্যদের তুলনায় কোটি গুণ বেশি ভাইরাস থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, রোগের কোন পর্যায়ে কেউ আছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যখন সবচেয়ে বেশি অসুস্থ থাকে, তখন শ্বাস নেওয়া, কথা বলা বা কাশির সঙ্গে অনেক বেশি সংক্রামক কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, অসুস্থ অবস্থায় নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত ক্ষুদ্র কণার সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং এসব কণার প্রতিটিতে শত শত ভাইরাস থাকতে পারে।
এ ছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে বেশি সূক্ষ্ম কণা বা বায়ুকণাও ছাড়েন, যা বাতাসে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকতে পারে এবং ফুসফুসের গভীর অংশে পৌঁছাতে সক্ষম। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, শারীরিক গঠনও ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত ওজনের মানুষ সাধারণত শ্বাস নেওয়ার সময় বেশি কণা ছড়ান। আবার ফুসফুসের আকার বড় হলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বেশি হলে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনাও বাড়ে। শিশুদের ফুসফুস ছোট হওয়ায় তারা সাধারণত সুপারস্প্রেডার হয় না।
কথা বলার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চস্বরে কথা বলা, জোরে গান গাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট ধ্বনি উচ্চারণের সময় বেশি কণা বের হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, জোরে কথা বললে নীরব বা কম শব্দে কথা বলার তুলনায় কয়েক দশক গুণ বেশি বায়ুকণা ছড়াতে পারে।
পরিবেশগত বিষয়ও বড় ভূমিকা রাখে। বন্ধ ও বাতাস চলাচলহীন জায়গা, যেমন ব্যায়ামাগার বা ভিড়ভাট্টা কক্ষ, সুপারস্প্রেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে ব্যায়ামের সময় দ্রুত শ্বাস নেওয়ার কারণে স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় বহু গুণ বেশি কণা বাতাসে ছড়ায়। শুষ্ক পরিবেশে কণাগুলো আরও ছোট হয়ে দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকলেই কেউ সুপারস্প্রেডার হয়ে ওঠে না। সামাজিক আচরণ, মানুষের সংস্পর্শে আসার সংখ্যা এবং কোথায় কত সময় কাটানো হচ্ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে হয়তো কারা সুপারস্প্রেডার হতে পারেন তা আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা অতিরিক্ত সতর্কতা নিতে পারবেন এবং টিকাদানে আরও উৎসাহিত হতে পারেন।
এদিকে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ফ্লুর মৌসুমে ভিড়পূর্ণ ও শব্দপূর্ণ জায়গা এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
















