কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ রপ্তানির বিষয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে একটি বিল এগিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি। বিপুল ভোটে অনুমোদিত এই প্রস্তাব আইন হলে, চীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দেশগুলোতে উন্নত এআই চিপ রপ্তানি ঠেকানোর ক্ষমতা আরও শক্ত হবে কংগ্রেসের।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট গত ডিসেম্বরে এই বিল উত্থাপন করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনভিডিয়ার শক্তিশালী এইচ২০০ এআই চিপ চীনে পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার পরই বিলটি আনা হয়।
এআই ওভারওয়াচ অ্যাক্ট নামের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি এবং সিনেটের ব্যাংকিং কমিটি এআই চিপ রপ্তানির লাইসেন্স পর্যালোচনার জন্য ৩০ দিন সময় পাবে। প্রয়োজন হলে তারা ওই লাইসেন্স বাতিল বা আটকে দিতে পারবে। বিলটি কার্যকর হতে হলে এখনো প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পেতে হবে।
বিলে চীন ছাড়াও রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও ভেনেজুয়েলাকে‘উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশে এআই চিপ পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কংগ্রেস সদস্যদের কাছে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে, যাতে প্রমাণ থাকবে যে এসব চিপ সামরিক, গোয়েন্দা বা নজরদারি কাজে ব্যবহার করা হবে না।
কমিটির বৈঠকে মাস্ট বলেন, উন্নত এআই চিপকে অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির মতোই নজরদারির আওতায় আনতে হবে। তার মতে, বিষয়টি ভবিষ্যতের যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বিলটির পক্ষে কাজ করা প্রযুক্তি বিষয়ক সংগঠন আমেরিকানস ফর রেসপনসিবল ইনোভেশন জানিয়েছে, এই আইন চীনের এআই উন্নয়ন গতি ধীর করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা রক্ষায় সহায়ক হবে।
তবে হোয়াইট হাউসের এআই বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেভিড স্যাকস এবং প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মহল বিলটির বিরোধিতা করেছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, বিলটি ট্রাম্পবিরোধী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র। স্যাকস এসব পোস্টে সমর্থনসূচক মন্তব্যও করেন।
অন্যদিকে, এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই প্রকাশ্যে চীনে উন্নত এআই চিপ পাঠানোর বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
বিলটি নিয়ে অনলাইনে সমালোচনার জবাবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইকেল ম্যাককল বলেন, বড় করপোরেট স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলো নিজেদের লাভের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে এনভিডিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
















