আলোচিত বক্তব্যকে নেতিবাচক নয়, রাজনৈতিকভাবে লাভজনক বলছেন প্রার্থী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘বিড়ি’ সংক্রান্ত বক্তব্যকে নেতিবাচক না দেখে বরং জামায়াতে ইসলামীর জন্য রাজনৈতিকভাবে লাভজনক বলে মন্তব্য করেছেন ঝালকাঠি-১ আসনে দলটির প্রার্থী ড. ফয়জুল হক। তার দাবি, এই বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনায় জামায়াতের পক্ষে প্রায় দুই কোটি ভোট বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী–র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ড. ফয়জুল হক। অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু–কে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
ড. ফয়জুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হয়, কারণ তাদের যেকোনো বক্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। “সেদিন দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে। অথচ ওই বক্তব্যের কারণেই জামায়াতের ভোট বেড়েছে দুই কোটি,”—দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, চায়ের দোকান বা সাধারণ মানুষের আড্ডাস্থলে গিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রমের কথা বোঝাতে গিয়ে তার বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষায়, “আমি বলেছি—আমার কর্মীরা চায়ের দোকানে গেলে চা খাওয়ার সময়ও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেবে। কেউ যদি বিড়ি খেয়েও থাকে, সেখানেও দাওয়াত পৌঁছাবে। এতে সমস্যা কোথায়? বিড়ি খাওয়া মানুষ কি আমাদের ভোট দেবে না?”
ড. ফয়জুল হক আরও বলেন, মানুষের ভুল অভ্যাস পরিবর্তনের সুযোগ আল্লাহই দেন। “আল্লাহ চাইলে কাউকে ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন। জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষকে সংশোধনের জন্য,”—মন্তব্য করেন তিনি।
ভাইরাল হওয়াকে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে এটিকে রাজনৈতিক ‘শক্তি মার্কেটিং’ হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এতে আমাদের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকার মার্কেটিং হয়ে গেছে। দুই মিনিটের বক্তব্যই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক ধরনের উপহার।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর এলাকায় ঘুরে মানুষের আগ্রহ দেখে তিনি নিশ্চিত—ভোটাররা পরিবর্তন চায়। “মানুষ বলছে, সব দেখা হয়েছে, এবার দাঁড়িপাল্লা দেখতে চাই। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না, ইনশাআল্লাহ,”—বলেন তিনি।
















