প্রতীক বরাদ্দের পরই উত্তপ্ত ভোটের মাঠ; আচরণবিধি লঙ্ঘন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে শঙ্কা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতীক গ্রহণের সময় এবং পরবর্তী প্রচারণার শুরুতে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে বিশৃঙ্খলা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। বিশেষ করে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতীক নিতে এসে প্রার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর দেশের ৩০০টি আসনেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। তবে শুরুতেই দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু, আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে ভোটের মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে যে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট জোটের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন।
নির্বাচনী মাঠের প্রধান অভিযোগ ও বিশৃঙ্খলাসমূহ:
- নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রতীক নিতে এসে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র ও ছোট দলের প্রার্থী অভিযোগ করেছেন যে, বড় দলগুলোর কর্মীরা মাঠ দখল করে রাখছে এবং তাঁদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
- দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্ক: বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ তুলে সেগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিপক্ষ জোটগুলো। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
- আচরণবিধি লঙ্ঘন: প্রতীক পাওয়ার পরপরই অনেক এলাকায় মোটর শোভাযাত্রা এবং দেওয়ালে পোস্টার লাগানোর মতো ঘটনা ঘটেছে, যা সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন। নারায়ণগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
- চাঁদাবাজির অভিযোগ: নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি ও এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেতাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এক নজরে নির্বাচনী পরিস্থিতির চিত্র:
[Image showing a crowded election office with candidates receiving symbols, contrasted with a visual map highlighting ‘Sensitive Districts’ with high conflict reports like Comilla, Narayanganj, and Dhaka]
| বিষয | বর্তমান পরিস্থিতি |
| মোট বৈধ প্রার্থী | প্রায় ১,৯০০ জন (১৮৪২+)। |
| প্রধান অভিযোগ | দ্বৈত নাগরিকত্ব, চাঁদাবাজি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব। |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | ৯২,৫০০ সামরিক সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা। |
| বিতর্কিত আসন | কুমিল্লা-৪, নারায়ণগঞ্জ-২, ৩ ও ৪ এবং ঢাকা বিভাগের বেশ কিছু আসন। |
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। ইতিমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু হয়েছে, যাতে ২০০-এর বেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রার্থীদের যেকোনো অভিযোগ তাৎক্ষণিক ‘ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটি’-তে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রার্থীদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে ভোটের দিন বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
















