৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে রক্ষায় বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে তাদের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের নগদ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এই বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে এবং শুরুতে দুই বছরের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা ঋণ পরিশোধে বিরতি সুবিধা পাওয়া যাবে।
বিশেষ সুবিধার মূল শর্ত ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- আবেদনের সময়সীমা: আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ব্যাংককে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
- ডাউন পেমেন্টের নিয়ম: গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে ৩ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। এর মধ্যে ১.৫ শতাংশ আবেদনের সময় এবং বাকি ১.৫ শতাংশ ঋণ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধযোগ্য।
- কিস্তি ও গ্রেস পিরিয়ড: নিয়মিত হওয়া ঋণের ক্ষেত্রে ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১০ বছর সময় পাওয়া যাবে। গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হবে।
- পুনর্গঠন সুবিধা: আগে পুনঃতফসিল করা ঋণের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে সর্বোচ্চ ২ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
এক নজরে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের নতুন ঋণ নীতিমালা:
| বিষয় | বিবরণ |
| সুযোগ গ্রহীতা | ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ও রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। |
| ডাউন পেমেন্ট হার | মোট ৩% (১.৫% শুরুতে + ১.৫% পরে)। |
| ঋণের মেয়াদ | সর্বোচ্চ ১০ বছর। |
| গ্রেস পিরিয়ড | ২ বছর (এই সময়ে কেবল সুদ পরিশোধ)। |
| শেষ সময় | ৩০ জুন ২০২৬ (আবেদনের জন্য)। |
কেন এই উদ্যোগ?
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় জাহাজ নির্মাণ শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। আমদানির বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করতে এই খাতের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তবে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, গ্রাহক সত্যিই নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ পুনরায় খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে।
















