গ্রিনল্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একযোগে ‘ট্রেড বাজুকা’ বা অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। ট্রাম্পের অনড় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলেছে।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখল বা কেনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শুল্ক হুমকির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপ। ডেনমার্কের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে ইউরোপীয় নেতারা একযোগে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অস্ত্র ‘ট্রেড বাজুকা’ বা অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং ডেনমার্ককে দেওয়া হুমকির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ক এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান জার্মান এমইপি বের্ন্ড লাঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত বা অর্থনৈতিক জবরদস্তি মোকাবিলা করতেই এই ‘ট্রেড বাজুকা’ তৈরি করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে হুমকি দেওয়া বন্ধ না করেন, তবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অবিলম্বে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে।” জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো (১০৮ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের একটি তালিকা তৈরি করছে। ২০২৩ সালে গৃহীত এই ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’-এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে ব্রাসেলসের।
বিতর্কটি নতুন মাত্রা পায় যখন ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির বিরোধিতার শাস্তি হিসেবে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ এবং জুন থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনকি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। এর জবাবে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশ একাট্টা হয়ে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই কেনাবেচার বিষয় নয়। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, “ইউরোপ যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক জবরদস্তির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় প্রস্তুত। আমরা সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।”
এদিকে ডেনমার্কের সাধারণ মানুষও ট্রাম্পের এই অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ডেনমার্কের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেন এবং সত্যিই শুল্ক আরোপ শুরু করেন, তবে এর প্রভাব শুধু বিশ্ব অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি নিরাপত্তা জোট ন্যাটোর (NATO) স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের ওপরও বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সংকটের সূচনা করবে।
















