প্রায় দুই দশক পর পলোগ্রাউন্ডে বিএনপির মহাসমাবেশ, ১০ লাখ মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি
প্রায় ২০ বছর পর বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ জানুয়ারি ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশে তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকবেন।
প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠ-এ বিএনপির মহাসমাবেশে তিনি অংশ নেবেন। চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে এসেছিলেন ২০০৫ সালের ৬ মে। সে সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবার চট্টগ্রামে আসছেন তিনি। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে ভোট চাইতে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। এরপর আর কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সফর করেননি।
এর আগে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসমাবেশে বক্তব্য দেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই মাঠে এবার দলের প্রধান হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান—যা বিএনপি নেতাদের মতে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ জানান, তারেক রহমান ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং রাতটি সেখানেই অবস্থান করবেন। পরদিন ২৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। সমাবেশ দুপুর ১২টার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দলের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম আসছেন—এই খবরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পলোগ্রাউন্ডে মানুষের ঢল নামবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মহাসমাবেশ সফল করতে সোমবার পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সাবেক মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি মঞ্চ প্রস্তুতি, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই মহাসমাবেশ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রতিফলন। জনদুর্ভোগ এড়াতে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
















