নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযানে উত্তপ্ত সরাইল; তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও ভাইরাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার তীব্র তোপের মুখে পড়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রুমিন না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার, মাথায় রাইখেন।’
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামবাদ (গোগদ) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নির্বাচন বিধিমালা ১৮ লঙ্ঘন করে জনসমাবেশ আয়োজন করার খবর পেয়ে সেখানে অভিযানে গিয়েছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘যাদের কথায় এখন আপনারা চলছেন, শেখ হাসিনার সময় তারা কানে ধরে খাটের নিচে থাকত। আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না।’
ঘটনার মূল বিবরণ:
- নিয়মবহির্ভূত সমাবেশ: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান জানান, নিয়মবহির্ভূতভাবে সমাবেশের আয়োজন করায় তিনি সেখানে বাধা দেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে চান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রুমিন ফারহানা।
- হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ: ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করে বলছেন, ‘আমি শেষবারের মতো আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। আপনি পারলে থামিয়ে দেন। আজ আমি ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলছি, পরবর্তীতে সেটা করব না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রশাসন অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নমনীয় থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি দেখাচ্ছে।
- জরিমানা আদায়: সমাবেশ করতে না পারলেও আয়োজক মো. জুয়েলকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
- প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: হেনস্তার শিকার ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ততটাই বাড়ছে, যা মাঝেমধ্যেই প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।
















