বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও সংস্কারের উত্তাল আবহাওয়ার মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ) তাদের রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেয়। মূলত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা একটি বড় অংশ এবং সমমনা বামপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের অ্যাকটিভিস্টদের সমন্বয়ে এই নতুন জোট গঠিত হয়েছে।
পাঁচ মূলনীতি ও সাত লক্ষ্য
এনপিএ তাদের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণায় পাঁচটি মূলনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এগুলো হলো— গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশের সুরক্ষা। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, কেবল নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি ‘অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’ হিসেবে তারা কাজ করবেন।
নেতৃত্বে আলোচিত মুখ ও ১০১ সদস্যের কমিটি
সংগঠনটি পরিচালনার জন্য ১০১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তুহিন খান, নাজিফা জান্নাত এবং ফেরদৌস আরা রুমিকে যৌথভাবে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে ছাত্র ইউনিয়নের আলোচিত নেতা মেঘমল্লার বসুসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের প্রভাবশালী কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যখন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ৩০টি আসনে সমঝোতা করেছে, ঠিক তখনই এনসিপির একাংশের পদত্যাগ করে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রেক্ষাপট: বাম ও নাগরিক শক্তির সমন্বয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে বৃহৎ জোটগুলোর বাইরে একটি বিকল্প বাম-নাগরিক শক্তির উত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছে এই প্ল্যাটফর্ম। শহীদ মিনারের ঘোষণা থেকে তারা দেশের চলমান জুলাই পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করার এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনপিএ-র মুখপাত্ররা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা তাদের পরবর্তী কর্মসূচি এবং নির্বাচনী অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
















