আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে টানাপোড়েন; বিকেলে ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় দলটির মজলিসে শূরার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি শুরু থেকেই শতাধিক আসন দাবি করলেও জামায়াত তাদের জন্য ৪০টি আসন বরাদ্দ রেখেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের একক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে জোটে থাকা কওমি ঘরানার দলগুলো। আজকের এই বৈঠকের পর জোটের ভবিষ্যৎ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
নির্বাচনের মাত্র চার সপ্তাহ বাকি থাকলেও আসন বণ্টনের জটিল সমীকরণ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশেষ করে প্রধান শরিক ইসলামী আন্দোলনের সাথে দূরত্বের প্রভাব পড়তে পারে পুরো জোটের ওপর।
আসন ভাগাভাগি ও অসন্তোষের নেপথ্যে
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে চলা রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতে আসন সংখ্যা নিয়ে দরকষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে:
- ইসলামী আন্দোলনের দাবি: দলটি শুরুতে ১০০টির বেশি আসন চাইলেও পরে ৫০টিতে নেমে আসে। কিন্তু জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে চায়।
- এনসিপি ফ্যাক্টর: শেষ মুহূর্তে জোটে আসা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের ঘোষণাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে ইসলামী আন্দোলন।
- খেলাফত মজলিসের অবস্থান: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন যদি জোট ত্যাগ করে, তবে তারাও জোটে থাকার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবে।
মজলিসে শূরার বৈঠক ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমদ জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতভর শূরার সদস্যদের সাথে আলোচনার পর আজ দুপুরে পুনরায় বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে যদি জামায়াতের প্রস্তাবিত আসন সংখ্যায় দলটির নেতারা সন্তুষ্ট না হন, তবে তারা এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারে অথবা ভিন্ন কোনো কৌশলগত অবস্থানে যেতে পারে।
বিকেলে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন
এদিকে, জোটের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী আজ বিকেলে একটি বড় সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ১১ দলের আসন সমঝোতা ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তবে ইসলামী আন্দোলন সেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল বিরাজ করছে।
















