সীমান্তে আতঙ্ক; মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘর্ষের রেশ বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার ওপার থেকে আসা গুলিতে আহত ৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা আফনানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ কিছুটা কমলেও আতঙ্ক কাটেনি। মঙ্গলবার ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামে দুটি বসতবাড়িতে মিয়ানমার থেকে আসা গুলি বিদ্ধ হয়েছে। এতে কোনো হতাহত না হলেও সীমান্ত এলাকার অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। এছাড়া গত সোমবার মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবক আবু হানিফের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত পায়ের অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির মূল পয়েন্টসমূহ:
- কূটনৈতিক প্রতিবাদ: সীমান্তের ওপার থেকে গুলিবর্ষণ ও বাংলাদেশি শিশু আহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মো-কে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
- সীমান্তে নতুন হামলা: হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা নবী হোছাইন জানান, মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ একটি গুলি তাঁর ঘরের দেয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। সীমান্তের এপারে মাঝেমধ্যেই বিকট গোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
- আহতদের অবস্থা: গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফাকে বিজিবির বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। তার মাথার আঘাত গুরুতর হওয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো আবু হানিফ চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাঁর সরকার এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো অনুপ্রবেশ বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
















