আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে ১০ শতাংশে নামাল সরকার
শুল্ক ছাড়ে স্মার্টফোন সস্তা হওয়ার সম্ভাবনা, বৈধ আমদানিতে উৎসাহ বাড়বে বলে আশা
মোবাইল ফোন ও এর যন্ত্রাংশ আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড় দিয়েছে সরকার। স্মার্টফোনের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বাজারে স্মার্টফোনের দাম গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে ধারণা করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি কমানোয় আমদানি করা মোবাইল ফোনের ওপর আরোপিত মোট ভ্যাট ও করের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একজন মোবাইল ফোন আমদানিকারক জানান, বর্তমানে একটি হ্যান্ডসেটের ওপর সব মিলিয়ে প্রায় ৬১ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হয়। শুল্ক কমানোর ফলে ৪০ হাজার টাকার একটি স্মার্টফোনের দাম প্রায় আট হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের প্রতিটি আমদানি করা স্মার্টফোনের দাম সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা বৈধ পথে ফোন আমদানিতে আরও উৎসাহিত হবেন এবং অবৈধ বা আনঅফিসিয়াল হ্যান্ডসেটের বাজারও সংকুচিত হবে বলে আশা সংস্থাটির।
বর্তমানে দেশে আনঅফিসিয়াল বা অবৈধ পথে আসা মোবাইল ফোনের বড় বাজার রয়েছে। এসব সেট সাধারণত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা, নকল অথবা পুরোনো ফোন সংস্কার করে বিক্রি করা হয়। এসব হ্যান্ডসেট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ থাকায় সরকার চলতি মাসে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করেছে।
এনইআইআর চালুর ঘোষণার পর মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, বৈধ সেটের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। পরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), এনবিআর ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সঙ্গে আলোচনায় শুল্ক ও কর কমানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। ১ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
আমদানির পাশাপাশি দেশীয় মোবাইল সংযোজন শিল্পকেও সুবিধা দিয়েছে সরকার। এনবিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসম প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করতে মোবাইল ফোন সংযোজনের কাঁচামাল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দেশে সংযোজিত ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের প্রতিটি ফোনের মূল্য আনুমানিক দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন প্রস্তুত ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে নয়টি। শুল্ক ছাড়ের ফলে ভোক্তারা যেমন দাম কমার সুবিধা পাবেন, তেমনি বৈধ বাজার ও দেশীয় শিল্প শক্তিশালী হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।















