ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেছেন। নরওয়ের নোবেল কমিটি শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর নাম ঘোষণা করে। মাচাদোকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে “স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবিচল নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে।”
নোবেল কমিটির চেয়ার জর্গেন ওলসেন বলেন, “মারিয়া কোরিনা মাচাদো এমন এক নেতা যিনি নিপীড়ন, দমন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মধ্যেও গণতান্ত্রিক আদর্শে অটল থেকেছেন। তাঁর সাহস ও নৈতিক দৃঢ়তা লাখো ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য অনুপ্রেরণা।”
৬৭ বছর বয়সী মাচাদো বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের কঠোর দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখপাত্র। তিনি বহু বছর ধরে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের দাবিতে রাজনৈতিক সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। গত কয়েক বছরে তাঁকে একাধিকবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাঁর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মাচাদো বলেন, “এই পুরস্কার শুধু আমার নয়, এটি ভেনেজুয়েলার প্রতিটি নারী, যুবক ও নাগরিকের যারা ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে।” তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য লড়াই আজ শুধু ভেনেজুয়েলার নয়, গোটা বিশ্বের জন্য জরুরি।”
নোবেল কমিটি জানায়, মাচাদোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলায় বিরোধী দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানাচ্ছে। তাঁর রাজনৈতিক সংগঠন Vente Venezuela গত এক দশক ধরে নির্বাচন-স্বচ্ছতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করছে।
নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অনুষ্ঠিত এই ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান দমননীতি ও সংঘাতের মধ্যেও মাচাদোর শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম “আশার প্রতীক”।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পুরস্কারটি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলবে। মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট আসন্ন নির্বাচনে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে এ বছর আফগানিস্তানের নারী অধিকারকর্মী, গাজা যুদ্ধবিরোধী সংগঠন এবং সুদানের মানবিক কর্মীদেরও আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মাচাদোকেই বেছে নেয় নোবেল কমিটি।
নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে তিনি ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ৯ লাখ মার্কিন ডলার) এবং সোনার মেডেল পাবেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে নরওয়ের অসলো সিটি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।
বিশ্ব নেতারা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো মাচাদোর এই অর্জনকে “গণতন্ত্রের জয়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন রাষ্ট্র তাঁর নেতৃত্ব ও সংগ্রামকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
নোবেল কমিটির ভাষায়, “মাচাদোর সাহস ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধই প্রমাণ করে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম কখনও বৃথা যায় না।”

















