বিরল কিন্তু গুরুতর চোখের রোগ হাইপোটনি আক্রান্ত রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় সাফল্যের দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা। লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এক নতুন ধরনের চোখের ইনজেকশন থেরাপির মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, যা আগে অসম্ভব বলে মনে করা হতো।
এই চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রথম রোগী ৪৭ বছর বয়সী নিকি গাই। তিনি জানান, এই চিকিৎসা তার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আগে যেখানে তিনি শুধু আঙুল গুনে দেখতে পারতেন এবং সবকিছু ঝাপসা লাগত, এখন সেখানে তিনি চোখের পরীক্ষার চার্টের বেশিরভাগ অক্ষর পড়তে পারছেন। নিজের সন্তানের বড় হওয়া দেখতে পারছেন বলেও জানান তিনি।
হাইপোটনি রোগে চোখের ভেতরের চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, ফলে চোখ ধসে পড়ে এবং দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এটি চোখে আঘাত, প্রদাহ, অস্ত্রোপচার বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হতে পারে। এতদিন এই রোগে স্টেরয়েড বা সিলিকন অয়েল ব্যবহার করা হলেও সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে বিষাক্ত হতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি তেমন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম নয়।
মুরফিল্ডস হাসপাতালের চিকিৎসকরা নতুন পদ্ধতিতে চোখের ভেতরের প্রধান অংশে স্বচ্ছ, পানিভিত্তিক একটি জেল ইনজেকশন দেন। এই জেলটির নাম হাইড্রোক্সিপ্রপাইল মিথাইলসেলুলোজ। এটি চোখের ভেতরের চাপ স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে এবং স্বচ্ছ হওয়ায় দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়।
নিকি জানান, ২০১৭ সালে সন্তানের জন্মের পর তার ডান চোখে সমস্যা শুরু হয়। সিলিকন অয়েল ব্যবহার করেও তেমন উন্নতি হয়নি এবং পরে বাম চোখেও একই সমস্যা দেখা দেয়। দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারানোর পর তিনি নতুন কোনো চিকিৎসার খোঁজ চালিয়ে যান।
চিকিৎসক হ্যারি পেট্রুশকিন বলেন, রোগীর চোখে এমন কিছু দেওয়া দরকার ছিল, যার ভেতর দিয়ে দেখা যায় এবং যা চোখকে আবার স্বাভাবিক আকার ও দৃঢ়তা দিতে পারে। প্রথম রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলেও ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই চিকিৎসা সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ পরপর প্রায় ১০ মাস ধরে দেওয়া হয়। প্রাথমিক গবেষণায় আটজন রোগীর মধ্যে সাতজনই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৩৫ জন রোগীর ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর শত শত বা হাজারো রোগী উপকৃত হতে পারেন, যদি তাদের চোখের পেছনের দৃষ্টিসংশ্লিষ্ট কোষগুলো কার্যকর থাকে। যদিও গবেষকরা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
















