পাহাড়ে বাড়ছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আনাগোনা; নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের শঙ্কা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে নিষিদ্ধঘোষিত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল)। নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও তারা তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনে মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্থানীয় সূত্র ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাতে জানা গেছে, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোপন আঁতাতের খবরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাহাড়ের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের আড়ালে ইউপিডিএফ মূলত তাদের চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে জন্ম নেওয়া এই সংগঠনটি পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালি বিদ্বেষ ছড়ানো এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার স্কুলগুলোতে জাতীয় দিবস পালন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনেও বাধা প্রদান করে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।
নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠীটি বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর উস্কানি দিচ্ছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ির পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করে রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব তৈরি করছে তারা। স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষায় এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর ইউপিডিএফের প্রভাব পাহাড়ের দীর্ঘদিনের শান্তি প্রক্রিয়াকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
















