কুষ্টিয়ায় জুলাই হত্যাযজ্ঞে নির্দেশের অভিযোগ তুলে ধরলেন প্রত্যক্ষদর্শী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে গুলি চালানোর নির্দেশ কারা দিয়েছিলেন—সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উঠে এসেছে একটি ‘চাঞ্চল্যকর’ জবানবন্দি।
জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে সংঘটিত ছয় হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী গুলি চালানোর নির্দেশ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। আজ (৭ জানুয়ারি) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিনে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ৩১ বছর বয়সী এক সমন্বয়ক জবানবন্দি দেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মামলায় মোট চার আসামি রয়েছেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে কুষ্টিয়ায় একাধিক মিছিলে ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালগুলোতেও আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া শহরের বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে প্রাণহানির হুমকিও দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ৪ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে লাখো মানুষের জমায়েতের সময় টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও সশস্ত্র হামলায় বহু আন্দোলনকারী আহত হন। পরে ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে চারদিক থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়, যাতে ছয়জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৪–১৫ বছরের এক কিশোরও ছিল বলে সাক্ষী উল্লেখ করেন।
জবানবন্দিতে সাক্ষীর দাবি, এসব হামলা ও হত্যাকাণ্ডে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন মাহবুবউল আলম হানিফ এবং তার নির্দেশ বাস্তবায়নে মামলার অন্য আসামিরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি কুষ্টিয়া শহরের হত্যাযজ্ঞের জন্য চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন সাক্ষীকে জেরা করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। ট্রাইব্যুনাল আগামী ২১ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছেন।
















