সিআইবি’র লাল তালিকাভুক্ত হয়েও ভোটের লড়াইয়ে ফিরলেন প্রভাবশালীরা; ৮২ জনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত বাতিল
ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা হারানোর শঙ্কায় থাকলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে হাফ ছেড়ে বাঁচলেন ৩১ জন প্রার্থী। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) তাঁদের খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করলেও আইনি লড়াইয়ে তাঁরা মনোনয়নপত্রের বৈধতা পেয়েছেন। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ৩১ জনের মধ্যে ১৫ জনই প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তবে কঠোর অবস্থানে থাকা নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা সিআইবি’র তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ৮২ জন খেলাপির মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই। এতে ঋণখেলাপির বিষয়টি ছিল সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আদালতের নির্দেশে টিকে গেলেন যারা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু উচ্চ আদালতের বিশেষ আদেশে ৩১ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে ফেরার ছাড়পত্র পেয়েছেন।
- বিএনপির ১৫ প্রার্থী: এই তালিকায় রয়েছেন আসলাম চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো হেভিওয়েট নেতারা। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও বগুড়া অঞ্চলের একাধিক বিএনপি প্রার্থী এই ক্যাটাগরিতে বৈধতা পেয়েছেন।
- স্বতন্ত্র ও অন্যান্য: ১১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের ৩ জন প্রার্থীও আদালতের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
বাতিল হলো ৮২ জনের মনোনয়ন
সিআইবি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ না করায় ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। ১. দলের ভিত্তিতে বাতিল: জাতীয় পার্টির ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন এবং গণঅধিকার পরিষদের ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের ২-৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও সেখানে বিকল্প প্রার্থী বৈধ থাকায় দলগুলো স্বস্তিতে আছে। ২. স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ধাক্কা: মোট ২৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋণখেলাপির দায়ে নির্বাচনের বাইরে ছিটকে গেছেন।
মনোনয়ন বাছাইয়ের সামগ্রিক চিত্র
দেশজুড়ে ৬৯টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
- মোট জমা: ২,৫৬৫টি মনোনয়নপত্র।
- বৈধ ঘোষণা: ১,৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
- মোট বাতিল: ৮০৫টি মনোনয়নপত্র (ঋণখেলাপিসহ অন্যান্য কারণে)।
- আপিল: রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধরা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
আইনি কড়াকড়ি ও অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি
সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে সেটি প্রমাণিত হয়, তবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও তাঁর পদ শূন্য হয়ে যাবে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর যারা টাকা জমা দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এবার নির্বাচন কমিশন কোনো ছাড় দেয়নি।
















