দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ জ্বালানি উপদেষ্টা; খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরাসরি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, এলপিজির বাজারে অরাজকতা বন্ধে দেশজুড়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন মাঠ পর্যায়ে অ্যাকশনে নামছে প্রশাসন।
অসাধু চক্রের ‘টার্গেট’ ও কৃত্রিম সংকট
জ্বালানি উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) যখনই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে দাম কিছুটা পরিবর্তনের আভাস দেয়, তখনই একদল অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।
- অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: বাজারে গ্যাসের সরবরাহ থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
- উপদেষ্টার বক্তব্য: মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান স্পষ্ট করে বলেন, “এলপিজির দামে এই ধরনের অস্বাভাবিকতা হওয়ার কোনো বাস্তব কারণ নেই। এটি সম্পূর্ণ খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজির ফল।”
কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো:
১. সারা দেশে অভিযান: মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।
২. আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত: গত সোমবারের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
৩. জরিমানা ও শাস্তি: কোনো ব্যবসায়ী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা রাখলে বা অবৈধ মজুত করলে তাঁকে বড় অংকের জরিমানাসহ কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
ভোক্তাদের জন্য বার্তা
উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের এই চিরুনি অভিযান শুরু হলে দ্রুতই এলপিজি গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসবে। সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কোনো দোকানে বেশি দাম চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
















