নতুন বছর অনেকের কাছেই নতুনভাবে ভাবার ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ হিসেবে আসে। তবে শুধু সংকল্প করলেই যে মন ভালো থাকবে, বিষয়টি এমন নয়। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় এমন কিছু অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো নিয়মিত চর্চা করলে মানসিক সুস্থতা বাড়তে পারে। বিবিসি ফিউচারের এক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে নিজেকে ভালো রাখার জন্য এমন নয়টি উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা বাড়াতে পারে। তাই নিজের ভুলকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া ও নিজেকে দোষারোপ না করে সহানুভূতির চোখে দেখাই হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ।
ভালো সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুদের সাফল্যে আন্তরিকভাবে আনন্দ প্রকাশ এবং ইতিবাচক যোগাযোগ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
নতুন সামাজিক শখ বা দলগত কার্যক্রমে যুক্ত হলে একদিকে যেমন মানসিক প্রশান্তি আসে, তেমনি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও তৈরি হয়। আঁকা, গান, দলগত খেলাধুলা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজ এতে সহায়ক হতে পারে।
রাগকে দমিয়ে না রেখে সঠিক পথে ব্যবহার করাও উপকারী। গবেষণা বলছে, নিয়ন্ত্রিতভাবে রাগের শক্তি কাজে লাগালে তা শারীরিক সক্ষমতা, মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিদিনের জীবনে কৃতজ্ঞতার চর্চা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন তিনটি ভালো ঘটনার কথা লিখে রাখার অভ্যাস সুখবোধ বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর হলেও, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি কাজে লাগানো সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন কমানো বা নোট নেওয়ার কাজে ফোন ব্যবহার মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
শীতের সময় মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক হলেও, ঋতুর ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নেওয়ার মানসিকতা শীতকালীন বিষণ্নতা কমাতে পারে। প্রকৃতির সৌন্দর্য বা পরিবার–বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো এতে সহায়ক।
গান গাওয়া মানসিক চাপ কমায়, শরীরে এন্ডরফিন বাড়ায় এবং সামাজিক সংযোগ জোরদার করে। একা বা দলবদ্ধভাবে গান গাওয়ার সুফল বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
সবশেষে, ছোট একটি দিনের ঘুম বা ন্যাপ মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ মিনিটের ঘুম মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ছোট অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে ২০২৬ সাল হতে পারে মানসিক সুস্থতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বছর।
















