সংস্কার কমিশনের সুপারিশে অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘মার্চিং অর্ডার’ দিয়েছে; তবে প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক অনীহা ও আইনগত বাধার কারণে বেশিরভাগ সুপারিশ কার্যকর হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘মার্চিং অর্ডার’ জারি করেন। এই নির্দেশনার লক্ষ্য ছিল সরকারের সব পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
উক্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। প্রতিটি কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়।
তবে নানা জটিলতা এবং রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বাধার কারণে এই সুপারিশগুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা কার্যকর হবে না।
সংস্কার কমিশনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কমিশনগুলো হলো:
- জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন
- দুর্নীতি দমন কমিশন
- বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন
- পুলিশ সংস্কার কমিশন
- নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন
- সংবিধান সংস্কার কমিশন
- শ্রমখাত সংস্কার কমিশন
- নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন
- স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন
- গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন
- স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন
কমিশনগুলো সংবিধান, নির্বাচন প্রক্রিয়া, বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি কর্মপরিচালনা, স্বাস্থ্য, নারী ও শ্রম খাতসহ বিভিন্ন খাতে সুপারিশ প্রদান করেছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহা, প্রশাসনিক জটিলতা, কর্মচারীর আন্দোলন, বাজেট সীমাবদ্ধতা এবং আইনগত বাধার কারণে অধিকাংশ সুপারিশ কার্যকর হয়নি।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, “আমরা আমাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছি। বাস্তবায়ন সরকারের দায়িত্ব। সব সুপারিশ একসাথে বাস্তবায়নের কোনও নির্দেশনা আমাদের নেই।”
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানুল হক জানান, “সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এসব নিয়ে কাজ করছে; অনেক সুপারিশ সময়সাপেক্ষ।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই সুপারিশগুলো পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর নতুন সরকারই এগুলো বাস্তবায়ন করবে কিনা তা অনিশ্চিত।
















