জনপ্রিয় ক্রোম ব্রাউজারের দুটি এক্সটেনশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর গোপন নজরদারির প্রমাণ মিলেছে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা দ্রুত এসব এক্সটেনশন মুছে ফেলার সতর্কতা দিয়েছেন।
‘ফ্যান্টম শাটল’ নামের এক্সটেনশন দিয়ে গোপনে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট ট্রাফিক
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত Google Chrome ব্রাউজারের দুটি এক্সটেনশন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরিসহ ইন্টারনেট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে—এমন গুরুতর তথ্য সামনে এনেছে সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা Socket Security।
গবেষকদের তথ্যমতে, একই প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই দুটি এক্সটেনশনের নাম ‘ফ্যান্টম শাটল’। এর একটি ডেভেলপারদের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তায় ব্যবহৃত হয়, আর অন্যটি মাল্টি লোকেশন নেটওয়ার্কের গতি পরীক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি। তবে আড়ালে এই দুটি এক্সটেনশনই ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং গোপনে ইন্টারনেট ট্রাফিক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—তথ্য সংগ্রহ ও গোপন নজরদারির অভিযোগ ওঠার পরও এখনো এই এক্সটেনশনগুলো Google–এর ক্রোম ওয়েব স্টোর থেকে সরানো হয়নি। ফলে অসচেতন ব্যবহারকারীরা এখনো এগুলো ডাউনলোড করে ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সকেট সিকিউরিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, যারা ইতোমধ্যে এই এক্সটেনশন ব্যবহার করছেন, তাদের অবিলম্বে সেগুলো ব্রাউজার থেকে মুছে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন করে এসব এক্সটেনশন ইনস্টল না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে নিরাপদ থাকতে হলে প্রয়োজন ছাড়া একাধিক ব্রাউজার এক্সটেনশন ব্যবহার করা উচিত নয়। কোনো এক্সটেনশন ইনস্টল করার আগে ব্যবহারকারীর রিভিউ, ডেভেলপার তথ্য এবং অনুমতির তালিকা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় অনুমতি চাওয়া এক্সটেনশন বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ব্রাউজারের মাধ্যমে তথ্য চুরির এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তাই ব্যবহারকারীদের সচেতনতা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।















