বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সেনাবাহিনীর সুসজ্জিত একটি দলের ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের মাধ্যমে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্য, দলীয় নেতা-কর্মী এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে এক শোকাতুর পরিবেশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দেশনেত্রী হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী।
জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ও তারেক রহমানসহ লাখো মানুষের ঢল; বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর প্রতিনিধিদের শেষ শ্রদ্ধা
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | সন্ধ্যা ০৭:৩০ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা
দাফনের আগে বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জুড়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
- শীর্ষ উপস্থিত: জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
- কূটনৈতিক উপস্থিতি: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারসহ বন্ধুপ্রতীম বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা জানাজায় শরিক হয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
দাফন ও শেষ মুহূর্তের অশ্রু
দাফনের সময় কবরের পাশে উপস্থিত ছিলেন বড় ছেলে তারেক রহমান। অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ কবরে মাটি দিয়ে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরিবারের নারী সদস্যরা হাত দিয়ে তাঁর মরদেহ ছুঁয়ে শেষ বিদায় জানান।

জনসমুদ্রে পরিণত সংসদ ভবন এলাকা
প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। জানাজা ও দাফন উপলক্ষে ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছিল। দাফন শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তাঁর জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি জাতীয় ঐক্য ও শোকের এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।















