ঢাকার হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই অংশগ্রহণ নির্বাচনি আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের নির্বাচনি ময়দানে ফেরা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের এনসিপি ব্যানারে নির্বাচন করা—সব মিলিয়ে রাজধানী এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তারেক রহমান ও শফিকুর রহমানসহ প্রধান নেতাদের কেন্দ্রবিন্দু এখন ঢাকা: ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সময়
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে ঢাকার বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। শেষ দিনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ঢাকার নির্বাচনি মাঠ এখন উত্তপ্ত।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন থেকে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একইভাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব ঢাকার কৌশলগত আসনগুলো বেছে নিয়েছেন।
ঢাকায় কার আসন কোনটি?
মনোনয়ন দাখিলের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে শীর্ষ নেতাদের অবস্থান নিচে দেওয়া হলো:
- তারেক রহমান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বিএনপি): ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী)। এ ছাড়াও তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
- ডা. শফিকুর রহমান (আমির, জামায়াতে ইসলামী): ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল)।
- নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, এনসিপি): ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা)।
- মাওলানা মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ): ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর)।
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (মুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি): ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল)।
- আরিফুল ইসলাম আদীব (জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি): ঢাকা-১৮ (উত্তরা-তুরাগ)।
স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী চ্যালেঞ্জ
ঢাকার নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ডা. তাসনিম জারা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি ঢাকা-৯ (খিলগাঁও-সবুজবাগ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শেষ বিকেলে প্রায় ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে তিনি খিলগাঁও নির্বাচনি কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
পরবর্তী সময়সীমা
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আজ ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে। কোনো প্রার্থীর আবেদন বাতিল হলে তারা ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। তবে নির্বাচনি জোট বা আসন সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিনই নিশ্চিত হওয়া যাবে ঢাকার রাজপথে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত লড়াইয়ে কারা থাকছেন।
















