পূর্বাচলের গণসংবর্ধনায় গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের অঙ্গীকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের
রাজধানীর পূর্বাচলে গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ ঘোষণা করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর নতুন বাংলাদেশ গড়তে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনাস্থলে বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লাল-সবুজ রঙে সজ্জিত একটি বাসে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। বিকেল তিনটা একান্ন মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং ছয় মিনিট পর বক্তব্য শুরু করেন।
বক্তব্যের শুরুতে ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ সম্বোধনে নেতা–কর্মীদের অভিবাদন জানান তারেক রহমান। মঞ্চে উপস্থিত নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঞ্চে তাকে স্বাগত জানান।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালে দেশের সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। তার মতে, আজ দেশের মানুষ আবার কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়।
তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। পাহাড় ও সমতল, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তিনি। এমন একটি দেশ গঠনের অঙ্গীকার করেন, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে।
বক্তব্যে শহীদ ওসমান হাদি-কে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি চেয়েছিলেন দেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মই দেশ গড়ে তুলবে। এজন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র গঠনের ওপর তিনি জোর দেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পরপর তিনবার বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি চাই।’
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। তিনি জানান, দেশ গড়ার জন্য তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি তার মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে করব কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ।’
বক্তব্য শেষে বিকেল সাড়ে চারটার কিছু আগে তারেক রহমান মঞ্চ ত্যাগ করে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।















