তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে জাতীয় ঐক্য, সমঝোতা ও রাজনৈতিক চমকের আলোচনা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ, সমঝোতা ও সম্ভাব্য ঐক্যের আলোচনা জোরালো হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন ও পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনার গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে তার ভূমিকার ওপর।
অনেক জল্পনা-কল্পনা ও প্রত্যাশার পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান বিভক্ত ও বিবদমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার এই প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারা মনে করছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, নির্বাচনে সহিংসতা রোধ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বই এখন মূল ভরসা হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে পারেন। প্রয়োজনে কিছু আসনে ছাড় দিয়ে হলেও একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে পারেন তিনি। এমনকি নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের ধারণাটিও নতুন করে সামনে আনতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তার প্রত্যাবর্তনের পর আসন সমঝোতা ও মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি এখন কেবল বিএনপির নেতা নন, বরং দেশের মানুষের আশা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এ কারণেই জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও আস্থায় নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচিতে প্রথমেই জাতীয় সরকারের কথা বলা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের অঙ্গীকার সেখানে রয়েছে। তারেক রহমান বিভিন্ন সভা ও বক্তব্যে এই ৩১ দফার বিষয়টি বারবার তুলে ধরেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের আগে হাতে থাকা কয়েকটি দিন রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এ সময়ের মধ্যে আসন ভাগাভাগি, শরিকদের সঙ্গে বিরোধ এবং বৃহত্তর ঐক্যের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তারেক রহমানের উপস্থিতি রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে বলেই তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকার গঠন করলে বিএনপিকে পূর্ববর্তী শাসনের বিপরীতে সুশাসনের একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। মাঠপর্যায়ে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
বর্তমানে দেশে সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সুধী সমাজের নজরও তার দিকেই। তাদের মতে, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে তারেক রহমানই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
রাজনীতিতে এখনো নির্বাচনি সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীতের মতো এবারও ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতা হলে নির্বাচনকালীন স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক সমঝোতাকে অনেকেই সময়ের দাবি হিসেবে দেখছেন।
এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীতে বড় পরিসরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনি কাজে ব্যবহারের জন্য বিএনপির কেনা বিশেষ নিরাপত্তাসম্পন্ন যানবাহনও দেশে পৌঁছেছে।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং আসন্ন নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
















