বয়স্কদের টার্গেট করে ব্যাংক, পুলিশ পরিচয়ে ফোন— এক ক্লিকেই চলে যাচ্ছে মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে মিরর অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে মোবাইলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে প্রতারক চক্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবীণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
বয়স্কদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। কখনও ব্যাংক কর্মকর্তা, কখনও পুলিশের পরিচয়ে ফোন করে ভয় দেখিয়ে মোবাইলে কিছু অ্যাপ ইনস্টল করানো হচ্ছে। এসব অ্যাপ ইনস্টল হওয়ার পর ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার মোবাইল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে প্রতারকদের হাতে।
গত কয়েক মাসে দেশে ও বিদেশে এমন একাধিক ঘটনার তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতারণার মূল হাতিয়ার হচ্ছে তথাকথিত মিরর অ্যাপ্লিকেশন—যার মাধ্যমে অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তি আক্রান্ত ডিভাইসকে আয়নার মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
মূলত সমস্যা সমাধান বা দূরবর্তী সহায়তার জন্য তৈরি হলেও এসব অ্যাপ এখন প্রতারণার অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। একবার ডিভাইসে ইনস্টল হলেই প্রতারক সহজে কল লিস্ট, স্ক্রিন কার্যক্রম, ব্যাংক অ্যাপ, এমনকি লেনদেনের সময় আসা ওটিপিও দেখতে পারে।
সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যানি ডেস্ক, টিম ভিউয়ার ও মিঙ্গল ডেস্ক—এই তিন ধরনের অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে মিরর অ্যাপ হিসেবে। এগুলো সক্রিয় থাকলে ব্যবহারকারীর ফোনে কী করা হচ্ছে, তার সব তথ্য সরাসরি পৌঁছে যায় অপর প্রান্তে।
প্রথম ধাপে প্রতারকরা বিশ্বাস অর্জন করে। বিদ্যুতের বিল দেওয়া, ঋণ সহায়তা বা ক্রেডিট কার্ড সমস্যার সমাধানের কথা বলে ব্যবহারকারীকে আশ্বস্ত করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে আর্থিক লেনদেন এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যেকোনো অ্যাপ ইনস্টলের সময় যেসব অনুমতি (পারমিশন) চাওয়া হয়, সেগুলো না বুঝে দেওয়া সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এই অনুমতির মাধ্যমেই গোপনে ডিভাইস থেকে সংবেদনশীল তথ্য চুরি শুরু হয়।
বিশ্বের কয়েকটি রাজধানীতে ইতোমধ্যে প্রবীণ নাগরিকরা এই কৌশলে বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এ ধরনের কিছু অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরেও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অ্যাপ ডাউনলোডের আগে রিভিউ, ডেভেলপার তথ্য ও ব্যবহারকারীর মতামত যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
যদি সন্দেহ হয় যে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ অন্য কেউ নিয়েছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, নিরাপত্তা সেটিংস পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে ডিভাইস রিসেট করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
















