মানবাধিকার দিবসের আলোচনায় ড. আসিফ নজরুল— সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ‘সুরক্ষিত’, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও অপরিবর্তনীয়
মানবাধিকার সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সরকার পরিবর্তনের পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অটুট থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এ দুটি মৌলিক বিষয় সুপ্রিম কোর্টের রায় ও সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমে ইতোমধ্যেই সুরক্ষিত। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মানবাধিকার দিবস–২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “দুটি বিষয় কখনোই হারিয়ে যাবে না— প্রথমত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, যা সুপ্রিম কোর্টের রায় দ্বারা সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত; দ্বিতীয়ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, যেখানে আদালত নিজেই আইনের রক্ষক।” মানবাধিকার অগ্রগতির জন্য এগুলো মৌলিক গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ সাম্প্রতিক সংস্কারগুলো জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। সরকার থেকে বিদায় নেওয়ার পরও এসব আইনি কাঠামো রক্ষায় নাগরিক সমাজের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যদিও শতভাগ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন সম্ভব হয়নি, তবুও নতুন কমিশন সরকারের ওপর প্রয়োজনীয় ইতিবাচক চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া, আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ের সেবা সংস্কারের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, ইউএনডিপির প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং সুইস দূতাবাসের প্রতিনিধি আলবার্তো জিওভানেত্তি।
















