জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি অভিযোগ করেছেন, চীনা যুদ্ধবিমান আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ওকিনাওয়ার নিকটে জাপানের বিমানের দিকে ফায়ার-কন্ট্রোল রাডার নির্দেশ করেছে—যা সম্ভাব্য হামলার সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়।
রবিবার ভোরে এক্স–এ দেওয়া পোস্টে কোইজুমি জানান, টোকিও এ ঘটনায় শক্ত প্রতিবাদ জানিয়ে বেইজিংয়ের কাছে পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাঁর মতে, এই রাডার সিগন্যাল নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার সীমা অতিক্রম করেছে এবং পরিস্থিতিকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
ফায়ার-কন্ট্রোল রাডার লক কোনো যুদ্ধবিমানের নেওয়া সবচেয়ে আক্রমণাত্মক সংকেতগুলোর একটি, যা লক্ষ্যবস্তু বিমানকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চীনের নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর বিমান বারবার চীনা নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কাছাকাছি এসে বাধা দিচ্ছিল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাপানের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
ওকিনাওয়ার নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জ দুই দেশেরই দাবিদার হওয়ায় ঘটনাগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান-চীন সেনাবাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও তুচ্ছ নয়, কারণ নভেম্বর মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক অভিযান চালায় এবং তা জাপানের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, তবে টোকিও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
চীনের দাবি, গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ান তাদেরই ভূখণ্ড, আর এটি জাপানের পশ্চিম প্রান্তিক দ্বীপ ইয়োনাগুনির মাত্র ১১০ কিমি দূরে।
কোইজুমি জানান, শনিবারের দুই ঘটনায় ব্যবহৃত চীনা জে–১৫ যুদ্ধবিমানগুলো লিয়াওনিং এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে উড্ডয়ন করেছিল। ওই ক্যারিয়ার ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার তখন ওকিনাওয়ার দক্ষিণে মহড়া চালাচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জাপানি বিমানের কোনো ক্ষতি বা আহত হওয়ার খবর নেই।
এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার চীন পূর্ব এশিয়ার জলসীমায় বিপুল সংখ্যক নৌ ও কোস্টগার্ড জাহাজ মোতায়েন করে, যার সংখ্যা এক পর্যায়ে ১০০–রও বেশি ছিল। তাইওয়ানের সরকার পরিস্থিতিকে পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে, আর জাপান বলছে, তারা চীনের গতিবিধি নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে।
তাইওয়ান কোস্টগার্ড জানায়, তারা তাইওয়ান প্রণালির পশ্চিম দিকে চীনের তিনটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জাহাজের মহড়া পর্যবেক্ষণ করছে, যদিও আশপাশের জলসীমার পরিস্থিতি এখনো “স্বাভাবিক”। চীনা রাষ্ট্রমাধ্যম দাবি করছে, মহড়াটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় অনুসন্ধান–উদ্ধার উদ্দেশ্যে। তবে তাইওয়ান বলছে, এসব ব্যাখ্যা “ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর”, এবং প্রকৃত লক্ষ্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা।
চীনের দাবি, পুরো তাইওয়ান প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান বলছে, এটি আন্তর্জাতিক জলপথ, যা দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়।
















