অভ্যুত্থানের সময় মোহাম্মদপুরে গুলিতে সবুজ হত্যায় ‘পরিকল্পনা, নির্দেশ ও সহযোগিতায়’ ভূমিকার অভিযোগ; মোট আসামি ৩০ জন, অব্যাহতির সুপারিশ ৮০ জনের বিরুদ্ধে।
মোহাম্মদপুরে সবুজ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। মোট ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগপত্র জমা।
২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানকালীন মোহাম্মদপুরে সিএনজি অটোরিকশা চালক সবুজ হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভার তিন সদস্যসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে ‘হত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশ, আর্থিক সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্রে ৩০ জনকে আসামি করেছে, যার মধ্যে ১৪ জনকে হত্যায় ‘সরাসরি অংশগ্রহণ’ ও ‘হামলা পরিচালনার সহযোগিতা’কারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম গত ২৭ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রটি ৪ ডিসেম্বর আদালতে উপস্থাপিত হলেও গ্রহণের বিষয়ে আদালত এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এজাহারে শেখ হাসিনা বা অন্য শীর্ষ নেতাদের নাম না থাকলেও তদন্তে তাদের ভূমিকার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তৎকালীন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি নুরনবী চৌধুরী শাওন ও সাদেক খানসহ একাধিক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা আন্দোলন দমনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, তারা গোপন বৈঠক করে নেতাকর্মীদের আন্দোলন প্রতিহত করতে নির্দেশ দেন এবং অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন।
২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট ময়ূর ভিলার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চলাকালে সবুজ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে স্থানীয় কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করেন।
অপরদিকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
নিহত সবুজের পরিবার বলছে, তারা সুষ্ঠু বিচার চান। সবুজের ভাই মনির হোসেন বলেন, “বিনা দোষে আমার ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চাই।” পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে বাবা-মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
অভিযোগপত্রে আন্দোলনের পটভূমি, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারের বক্তব্যসহ তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি—তদন্তে পাওয়া আচরণ, বক্তব্য ও নির্দেশনার ভিত্তিতে শীর্ষ নেতাদের ‘পরিকল্পিত ভূমিকা’র প্রমাণ মিলেছে।
















