বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল সার্ভার অচল—এনপিএসবি লেনদেন বন্ধ, অ্যাপ-পেমেন্ট ক্র্যাশ, দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রায় স্থবির।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার ডাউন হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড লেনদেন, এনপিএসবি ও চেক ক্লিয়ারিং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়—বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিস্টেম অফ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল সার্ভার হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার ডাউন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর ফলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অ্যাপভিত্তিক লেনদেন, অনলাইন পেমেন্ট থেকে শুরু করে কার্ড ট্রান্সাকশন—কোনোটিই স্বাভাবিকভাবে চলেনি।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে লগইন করা যাচ্ছে না, টাকা পাঠানো যাচ্ছে না, পণ্যের বিল পরিশোধ করতে গেলে কার্ড ট্রান্সাকশন বাতিল হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, হাসপাতালের বিল, যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই লেনদেন বন্ধ হয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।
সার্ভার ডাউনের প্রভাবে চেক ক্লিয়ারিং, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নিষ্পত্তি এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেনও বন্ধ হয়ে যায়। ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ায় ব্যাংক থেকে ব্যাংকে কার্ডভিত্তিক লেনদেন কার্যত থেমে গেছে।
বেশ কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকদের নোটিশ দিয়ে জানিয়েছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রান্তে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এনপিএসবি সেবা বন্ধ রয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজজনিত সমস্যার কারণে পুরো সিস্টেম অফ হয়ে গেছে। বিকাল ৪টার পর থেকে সার্ভার ডাউন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সব ধরনের আন্তঃব্যাংক লেনদেন আপাতত বন্ধ। আমরা পূর্ণ টিম নিয়ে কাজ করছি।”
তবে ঠিক কত সময় লাগবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য গ্রাহক জানান, তাদের কার্ড পেমেন্ট বাতিল হচ্ছে, বেতন পাঠানো যাচ্ছে না, ব্যবসায়িক লেনদেন থেমে গেছে—যা দৈনন্দিন সব কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করেছে।
দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় এমন সার্ভার বিপর্যয় সম্প্রতি বিরল হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এ ধরনের ঘটনা সাইবার নিরাপত্তা, ব্যাকআপ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ স্থিতিশীলতার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
















