সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যে আত্মরক্ষার গুলি ছোড়ার ব্যাখ্যা দিল বিএসএফ; নিহত শহীদের মরদেহ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি শহীদ হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় বাহিনী জানায়—এটি ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ ছোড়া গুলি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয় বলে দাবি তাদের।
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বাংলাদেশি এক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ গুলিচালনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, সীমান্তে উত্তেজনা ও আত্মরক্ষার পরিস্থিতি থেকেই গুলিটি ছোড়া হয়। তবে নিহতের পরিচয় বাংলাদেশি সূত্র নিশ্চিত করেছে—তার নাম শহীদ হোসেন (৩৮), বাড়ি চুয়াডাঙ্গার গয়েশপুর গ্রামে।
বিএসএফের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার মাটিয়ারি বিওপি এলাকায় ২৯ নভেম্বর রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে চোরাচালানকারীদের একটি দল সীমান্তবেড়ার কাছে সক্রিয় ছিল। জওয়ানরা প্রথমে থামার নির্দেশ এবং পরক্ষণে ফাঁকা গুলি ছোড়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তারা সামনে এগিয়ে যায়। বিএসএফ দাবি করে, বাংলাদেশি পাচারকারীরা ধারালো অস্ত্র ‘দা’ নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে এক জওয়ান আহত হন। বিশৃঙ্খলার মধ্যে ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ ট্রিগার চাপে এবং একটি বুলেট ছুটে যায়, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক বাংলাদেশির শরীরে লাগে।
বিএসএফ জানিয়েছে, গুলির শব্দ এবং সহযোগীর পড়ে যাওয়া দেখে অন্যান্য পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। আহত ব্যক্তিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে জলমগ্ন এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায় বলে দাবি ভারতীয় বাহিনীর।
ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, ধারালো অস্ত্র এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিএসএফ জানায়। আহত শহীদকে কৃষ্ণগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ও উদ্ধারকৃত মালামাল কৃষ্ণগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।
বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি পাচারকারীদের অনুপ্রবেশ ও হামলার বিষয়টি বিজিবির কাছে বহুবার তোলা হয়েছে, কিন্তু যথাযথ পদক্ষেপ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত শহীদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালে উপস্থিত বিএসএফ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি
















