আসামের ছয়টি প্রধান জাতিগোষ্ঠীকে তপশিলি জনজাতি (এসটি) মর্যাদা দেওয়ার জন্য গঠিত গ্রুপ অব মিনিস্টার্স (গোএম)-এর বহু প্রতীক্ষিত রিপোর্ট শনিবার শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বিধানসভায় উপস্থাপন করা হয়। রাজ্যের ত্রিপুরা (সমতল) বিষয়ক মন্ত্রী ড. রানোজ পেগু রিপোর্টটি পেশ করেন। তবে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই নথি নিয়ে আলোচনার দাবি জানালেও স্পিকার বিশ্বজিৎ ডাইমারি তা নাকচ করে দেন।
গোএম রিপোর্টে তাই আহোম, চুতিয়া, মোরান, মটোক, কোচ-রাজবংশী এবং চা-জনগোষ্ঠী (আদিবাসী) — এই ছয় সম্প্রদায়কে এসটি মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সভাপতিত্বে হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠক দুদিন আগেই এই সুপারিশ অনুমোদন করে। তিনি জানিয়েছেন, এই রিপোর্ট আসামের সব সম্প্রদায়ের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
রিপোর্ট পেশের পর উল্লাসে ফেটে পড়ে সংশ্লিষ্ট ছয় জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, এটি “ঐতিহাসিক পদক্ষেপ”। তাই আহোম যুব ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রণা রঞ্জন গোগোই বলেন, তারা অবশেষে ন্যায্য অধিকার পাওয়ার পথে এগোতে পেরেছেন।
অন্যদিকে, সমন্বয় সমিতির অধীন বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনগুলোর দাবি— এত বড় বড় সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করলে বিদ্যমান তপশিলি জনজাতিদের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও সংরক্ষণ সুবিধা হ্রাস পেতে পারে।
রিপোর্ট পেশের আগে কোচরাজহার জুড়ে দেখা যায় তীব্র বিক্ষোভ। বডোল্যান্ড ইউনিভার্সিটির হাজারো শিক্ষার্থী বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (বিটিসি) সচিবালয়ে মিছিল নিয়ে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে পড়ে। তাদের অভিযোগ, ছয় সম্প্রদায়কে এসটি মর্যাদা দিলে বডোদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিটিআরের সরকারি কাঠামোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাবে।
পুলিশ জানায়, বিটিসি সচিবালয়ের কিছু অংশে ভাঙচুর হয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পতাকা হাতে স্লোগান দেওয়ার দৃশ্য।
বিক্ষোভ আরও তীব্র হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, কারণ প্রভাবশালী অল বডো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এবিএসইউ) আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে অধিবেশনের শেষ দিনে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ছয়টি বিলও পাস হয়। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটির সময় স্পিকারের নির্দেশে দরজা বন্ধ থাকলেও সরকারের পক্ষের কয়েকজন বিধায়ক পরে এসে ভোটে অংশ নেন, যা নিয়ম পরিপন্থী বলে তাদের দাবি।
















