ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে চলমান আকাশযুদ্ধ ও সংঘাত তীব্রতর রূপ ধারণ করেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক সংঘাতের ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে হুথিরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দেশটির সার্বিক আকাশসীমা অবরুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা ‘সৌদিয়া এয়ারলাইনস’-এর একটি যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর প্রাঙ্গণ থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। সৌদিয়া এয়ারলাইনস নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে একজন তাদের নিজস্ব কর্মী। আন্তর্জাতিক তেল খাতের শীর্ষ বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও প্রধানদের নিয়ে সৌদি রাজধানীতে আয়োজিত একটি বৃহৎ উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটল। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস রিয়াদগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল করে। তবে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে রিয়াদ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে এবং ট্র্যাক ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ অনুসারে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাসহ অন্যান্য ফ্লাইট পুনরায় উঠানামা শুরু করেছে।
এদিকে হুথি কর্মকর্তা ও তাদের নিয়ন্ত্রাধীন সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর হামলার জবাবে রাতভর ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবস্থিত হুথিদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তাকারী সৌদি সামরিক জোট জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত হুথিদের তিনটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থান (লঞ্চিং প্যাড) সফলভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরীহ বেসামরিক মানুষের ওপর অন্যায় আক্রমণের জন্য হুথিদের কঠোর ও মারাত্মক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ জটিল ও সংকটময়। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তায়েজে অবস্থানরত সরকারি বাহিনীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর পাল্টা সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে তারা। সম্প্রতি ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুথিরা এক ঝটিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের বিস্তীর্ণ উপকূলরেখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। পরবর্তীতে সোমবার সৌদি বিমান বাহিনীর জোরদার সহায়তায় সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দেব উপকূলের বেশ কিছু ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে সৌদি আরবের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা তদারকি করা দেশটির বিশেষ রাষ্ট্রদূত শুক্রবার এক বার্তায় দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন বাব আল-মান্দেব প্রণালি এলাকাকে হুথিমুক্ত করা হয়েছে। তবে কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখায় হুথিদের উপস্থিতি রয়ে গেছে এবং সরকারি বাহিনী বর্তমানে মোখার কাছের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।























