৪ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর নতুন বার্থ ও শিপ-হ্যান্ডলিং অপারেটরের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে, যা বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মধ্যে সমর্থন ও সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
উদ্যোগের বিবরণ ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA) নতুন অপারেটর লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে, শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর। আবেদনকারীদের পরিচালন ক্ষমতা, প্রশিক্ষিত কর্মী, আধুনিক যন্ত্রপাতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং নিয়মকানুনের অনুসরণ প্রমাণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় দলিলের মধ্যে রয়েছে শিপিং লাইন চুক্তি, শ্রমিক বীমা, কর সনদ এবং ১ লাখ টাকা অ-ফেরতযোগ্য আবেদন ফি।
CPA সেক্রেটারি ওমর ফারুক জানিয়েছেন, আবেদনগুলো যাচাই করে কমিটি নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান করবে। বন্দরটি প্রতি বছর ১৩ কোটি টন কার্গো এবং ৩.৩ মিলিয়ন TEU পরিচালনা করে, তাই প্রতিযোগিতা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্টেকহোল্ডারের প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান বার্থ অপারেটররা, ফজলে একরাম চৌধুরীর নেতৃত্বে, উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন নতুন অপারেটর নিয়োগ ২০২৭ পর্যন্ত বৈধ চুক্তি লঙ্ঘন করতে পারে এবং বন্দর কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বার্থ পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অপরিহার্য।
অন্যদিকে শিপ-হ্যান্ডলার এবং ব্যবসায়ী নেতারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমিরুল হক, সিকম শিপিং লাইন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত, তবে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হতে হবে। মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স-এর সাবেক পরিচালক বলেন, নতুন অপারেটর নিয়োগ কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে, তবে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে লাইসেন্স প্রদান পুনরায় ঘটানো উচিত নয়।
বন্দর কার্যক্ষমতা চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের ৯০% আমদানি-রপ্তানি কার্গোর কেন্দ্র। FY25-এ বন্দর পরিচালনা করেছে ৩.২৯ মিলিয়ন TEU এবং ১৩ কোটি ৭ লাখ টন কার্গো, ৪,০৭৭টি জাহাজ কল করেছে। প্রধান টার্মিনালগুলোর মধ্যে রয়েছে NCT, CCT, এবং PCT, পাশাপাশি ১৭টি সক্রিয় জেটি। অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে বহিঃনোঙরে অপেক্ষার সময় কমেছে, তবে NCT-এ এখনও জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি উদ্যোগটি স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হয়, প্রতিযোগিতা এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, যদি অপারেটর নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বা তদারকি অভাব থাকে, তা বন্দর কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
একজন আন্তর্জাতিক শিপিং বিশ্লেষক বলেছেন: “চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতা কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে, তবে নিয়মনীতি এবং শাসন ব্যবস্থাই নির্ধারণ করবে উদ্যোগের সফলতা।”
















