ঢাকায় সাপ্তাহিক একাধিক ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিকম্প প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। রাজউক জানিয়েছে, রাজধানীতে ইতোমধ্যে ৩০০ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন। দেশের নিরাপত্তা ও নগর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
তেজগাঁওয়ে বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক; দুই দিনে চারবার ভূকম্পনে রাজধানীতে আতঙ্ক—অর্ধশতাধিক ভবন ফাটল, ৩০০ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়।
ঢাকা,২৪ নভেম্বর ২০২৫:
বাংলাদেশে শুক্রবারের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর রাজধানী ঢাকায় আতঙ্ক এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে ভূমিকম্প প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেল ৫টা থেকে তেজগাঁওয়ে সরকারপ্রধানের দপ্তরে চলছে এ উচ্চপর্যায়ের সভা—যেখানে উপস্থিত আছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, রাজউক ও ফায়ার সার্ভিসের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে—উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, ঢাকার মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। এতে তিন জেলায় প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন, আহত হন ছয় শতাধিক। ঢাকার অনেক ভবনে বড় ফাটল, কোথাও কোথাও হেলে পড়ার ঘটনাও দেখা গেছে।
এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর রাজধানীসহ আশপাশে তিন ঘণ্টায় তিনবার ভূকম্পন—আতঙ্ক আরও বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এদিকে রাজউক আজ জানিয়েছে—ঢাকায় ৩০০ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সেমিনারে রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বলেন—সমন্বয়ের অভাবে ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। তার দাবি, ভবন অনুমোদনে রাজউক নিয়ম মেনে কাজ করলেও মালিকেরা নকশা অনুসরণ না করায় ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন—সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস আলাদাভাবে কাজ করায় সামগ্রিক প্রস্তুতি বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে।
দেশজুড়ে বাড়ছে প্রশ্ন—ঢাকা কি বড় ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত? আর প্রধান উপদেষ্টার এই জরুরি বৈঠক—সে প্রশ্নেরই প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া।
















