বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্বাচনমুখী অবস্থানের পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে গুঞ্জন
বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার পর বাংলাদেশের পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল কে হচ্ছেন—এ প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের আইনাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও সিনিয়র আইনজীবীদের একাধিক নাম সামনে এসেছে।
────────────────────────
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট ও আইনাঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী তাকে পদত্যাগ করতে হবে—এমন বাস্তবতায় নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সরকার ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠেছে—বিদ্যমান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্য থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, নাকি সুপ্রিম কোর্ট বারের বাইরে থেকে নতুন মুখ আনা হবে।
সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। একই অনুচ্ছেদের উপধারা অনুযায়ী, তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী পদে বহাল থাকবেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে
বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ব্যারিস্টার অনীক আর হকের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ব্যারিস্টার আরশাদুর রউফ সুপ্রিম কোর্টে একজন অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যারিস্টার অনীক আর হক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সমন্বয়কদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভূমিকা রাখেন, যা তাকে আলোচনায় রেখেছে।
সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্ভাব্য নামগুলো
আইনাঙ্গনের আলোচনায় বিএনপিপন্থি ও নিরপেক্ষ কয়েকজন প্রভাবশালী আইনজীবীর নামও উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্ট বারের দুইবারের নির্বাচিত সম্পাদক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নাম হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা হলেও সব মতের আইনজীবীদের কাছে জনপ্রিয়। ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক আলোচিত রায়ে সফল আইনি লড়াইয়ের কারণে আলোচনায় এসেছেন।
এ ছাড়া অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট বিএম ইলিয়াস কচি এবং সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়ার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে। আইনাঙ্গনের একটি অংশ বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীর নামও আলোচনায় আনছেন।
নিয়োগ নিয়ে কী বলছেন আইনজীবীরা
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন, তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ করাই সংবিধানসম্মত পথ। এরপর রাষ্ট্রপতি নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেবেন।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন—তা নিয়ে আইনাঙ্গনের কৌতূহল ও জল্পনা আরও তীব্র হচ্ছে।
















