আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের পর বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ চাইলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় ভারত তা মানবে না বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
ঢাকা,
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাকে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, তা নিয়ে জোরালো বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় ভারত কোনো অবস্থাতেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে না।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, “ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না, এটা অত্যন্ত স্পষ্ট।” তিনি যুক্তি দেন, গত দেড় বছরে দিল্লি–ঢাকা সম্পর্ক বহুবার ভঙ্গুর হয়েছে, এবং ভারত এ মুহূর্তে এমন ঝুঁকি নেবে না।
রায় ঘোষণার পরই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুততর সময়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত পাঠানোর জন্য। কিন্তু ভারত এখন পর্যন্ত নীরব।
শ্রীরাধা দত্ত বলেন,
“হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাশিতই ছিল। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এমন প্রমাণ রয়েছে।”
২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ তার অধিকার প্রয়োগ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মানবাধিকার, কূটনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা মিলিয়ে বিষয়টি খুবই জটিল। ভারত অতীতে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
কানুন বিশেষজ্ঞ ড. সঙ্গীতা তাকের মতে,
“যদিও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কিন্তু ভারত সিদ্ধান্ত নেবে এতে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ কোথায়।”
ভবিষ্যৎ দিনে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে এই ইস্যু বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা।
















