হামাসের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন খলিল আল-হাইয়া। প্রায় দুই বছর ধরে সংগঠনটি স্থায়ী প্রধান ছাড়াই পাঁচ সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে তিনি সাবেক রাজনৈতিক ব্যুরোপ্রধান খালেদ মাশালকে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে হামাসপ্রধান ইয়াহইয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর আল-হাইয়া নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য হিসেবে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি হামাসের প্রধান আলোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা আল-হাইয়ার নেতৃত্বে হামাসের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে সংগঠনের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে গাজাকেন্দ্রিক অগ্রাধিকার আরও জোরালো হতে পারে। একই সঙ্গে তাকে বাস্তববাদী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাকেও গুরুত্ব দেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, আল-হাইয়া অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে গাজা ইস্যুতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। ফলে তার নেতৃত্বে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন করে আলোচনা এগোনোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন হামাসের সাংগঠনিক কাঠামো এখনও কার্যকর রয়েছে—এমন একটি বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও গাজাকেই তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রাখা হবে।
















