জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোন কারণ নেই। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর
ঢাকা, ৯ নভেম্বর ২০২৫: অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই এবং সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন নিয়ে নিশ্চয়তা
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নির্বাচন নিয়ে জনগণের শঙ্কা দূর করার চেষ্টা করে বলেন:
- নির্বাচনের তারিখ: “নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো ইস্যু নেই। অবশ্যই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
- উৎসবমুখর পরিবেশ: তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যা যা করা দরকার, সরকার তাই করবে।
- জনগণের আগ্রহ: তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৬-১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা আছে। তবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহ নিয়ে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে এবং তাদের মাঝে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপ ও শঙ্কা
রাজনৈতিক দলগুলোর মন্তব্য প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন:
“রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ও আমাদের (উপদেষ্টাদের) ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কথা বলে। এসব কথার কিছু হয়তো সত্য থাকে। তাদের কথায় জনমনে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।”
জামিন ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার
আইন উপদেষ্টা বিচার বিভাগীয় সংস্কার ও জামিন সংক্রান্ত বিষয়েও মন্তব্য করেন:
- জামিনের ভিত্তি: তিনি বলেন, জামিন দেওয়া শুধু বিচারকের ওপর নির্ভর করে না, পুলিশ কী রিপোর্ট দিচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে কিংবা কণ্ঠ শোনা গেছে—এ রকম হলে ব্যতিক্রম হয়।
- জামিনে সতর্কতা: তিনি সতর্ক করেন, যেখানে জামিন পাওয়ার যোগ্য, সেখানে জামিন পেতেই পারে। তবে যারা জামিন পেয়ে একই ধরনের অপরাধ করতে পারে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিনষ্ট করতে পারে, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সদস্য হয়ে তৎপরতা চালাতে পারে, তাদের যদি বেশি জামিন হয়, সেক্ষেত্রে আমরা আতঙ্কিত হবো।
- আদালত সংস্কার: তিনি জানান, আদালত সংস্কারে সরকার নানান উদ্যোগ নিচ্ছে। একজন বিচারকের জায়গায় আদালতে তিনজন বিচারক দেওয়া হচ্ছে, যাতে মামলার চাপ কমে এবং জনগণ অবশ্যই এর সুফল পাবে।
















