অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এর প্রভাব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে জিলং এলাকায় অবস্থিত একটি বড় তেল শোধনাগারে বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পেয়ে জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত বহু শ্রমিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কেউ আহত হয়নি।
এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রায় অর্ধেক জ্বালানি এবং দেশের মোট জ্বালানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উৎপাদন করে। বর্তমানে আংশিকভাবে চালু থাকলেও সরকার জানিয়েছে, পেট্রোল উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।
জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই জ্বালানি সরবরাহ চাপে রয়েছে, এর মধ্যে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। দেশে ডিজেলের মূল্য কয়েক সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়েছে এবং কিছু স্থানে সংকট ও অতিরিক্ত কেনাকাটার খবর পাওয়া গেছে। একই কারণে উড়োজাহাজ সেবাতেও প্রভাব পড়ছে।
দমকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।
প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিশোধন করা এই স্থাপনাটিতে এক হাজারের বেশি কর্মী কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনে কিছু উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে পেট্রোল, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানি উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া বিদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হওয়ায় সামগ্রিক সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবুও এই ঘটনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চাপ বাড়াবে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় মেয়র এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
















