মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ হয়ে গেছে। ১২ এপ্রিল রাতে শোধনাগারটি বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, অপরিশোধিত তেল আসা সাপেক্ষে সেটি চালু হতে ২৪ দিন সময় লাগবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ আসা বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আনতে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলীয় বন্দর ব্যবহার করছে। আগামী ২০ এপ্রিল পশ্চিম উপকূলের ইয়াক নুর বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে। সেটি চট্টগ্রামে পৌঁছতে ৫ মে নাগাদ সময় লাগতে পারে। বিপিসির কর্মকর্তারা এমন ধারণা করছেন।
যদি ঠিক সময়ে ওই জাহাজ আসে, তাহলে ৬ মে থেকে পুনরায় ইআরএল চালু হতে পারে। সে হিসাবে ইআরএল পুনঃউৎপাদনে আসতে সময় লাগবে ২৪ দিন।
ওই জাহাজের পরপর আরও তিনটি জাহাজ মধ্যপ্রাচ্য থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে। ইআরএলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি যাই হোক, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরোদমে তেল পরিশোধনে ব্যস্ত থাকবে ইআরএল।
এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে বাধা পায় তেলভর্তি বাংলাদেশের দুটি জাহাজ। এর মধ্যে একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন। সেটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী। ফলে এর হরমুজ প্রণালি পার হওয়া নিয়ে জটিলতা দেখছে ইআরএলের কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে যে জাহাজ আসার কথা ছিল, সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে বিপিসির কর্মকর্তারা কেবল মধ্যপ্রচ্যের অপরিশোধিত তেলের ওপরই নির্ভর করছেন।
তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট থাকলেও পরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। সৌদি আরব, কুয়েত কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবর্তে এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আসছে।
















