গাজায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েছে অনলাইন শিক্ষার ওপর নির্ভর করতে—যা বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ন্যূনতম সুযোগের অভাবে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
এই সংকটের মাঝেই দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকার আল-মাওয়াসিতে গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, যার নাম “ইউনিভার্সিটি সিটি”। এটি প্রতিষ্ঠা করেছে স্কলার্স উইদাউট বর্ডারস। কাঠ, টিন ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া উপকরণ দিয়ে তৈরি এই কেন্দ্র প্রতিদিন প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাসের সুযোগ তৈরি করছে।
এই উদ্যোগে সৌরশক্তি চালিত ইন্টারনেট, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু সহায়ক সুবিধা রাখা হয়েছে। সপ্তাহভিত্তিক সূচির মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এখানে ক্লাস পরিচালনা করছে, যাতে সীমিত জায়গায় বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী সুযোগ পায়।
গাজার বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় গাজা, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় গাজা এবং প্যালেস্টাইন কলেজ অব নার্সিং ইতোমধ্যে এই কেন্দ্র ব্যবহার শুরু করেছে।
তবে এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ভয়াবহ বাস্তবতা। ২০২৩ সালের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত বা আহত হয়েছেন এবং শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় ভেঙে পড়েছে।
অনেক শিক্ষার্থী জীবনে প্রথমবারের মতো এখানে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছে। তারা বলছে, এই পরিবেশ তাদের আবার স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি ফিরিয়ে দিচ্ছে।
তবে সেখানে পৌঁছানোও সহজ নয়। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, জ্বালানির সংকট এবং পরিবহনের অভাবে অনেক শিক্ষার্থীকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। অনেকেই ভোরে রওনা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ক্লাসে পৌঁছায়।
ক্লাস শেষে বাস্তবতা আবার কঠিন হয়ে ওঠে। তাঁবুতে বসবাস, দুর্বল ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সংকট এবং প্রযুক্তির অভাবে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষকদের মতে, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবহারিক বিষয়গুলোর জন্য সরাসরি ক্লাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অস্থায়ী কেন্দ্র শিক্ষার্থীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
সব প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা হাল ছাড়তে নারাজ। তারা মনে করছে, শিক্ষা চালিয়ে যাওয়াই তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র পথ।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধু একটি শুরু। অবরোধ ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আরও এমন শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পায়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তবতায় এই অস্থায়ী বিশ্ববিদ্যালয় এখন শিক্ষার শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
















