মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ সেখানে মাইন অপসারণ মিশনে চলাচল করেছে। তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান।
মার্কিন সেন্টকম (সেন্ট্রাল কমান্ড) জানায়, তাদের ডেস্ট্রয়ার জাহাজ—ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি—প্রণালী অতিক্রম করে আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে। তাদের মতে, এই মিশনের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কর্তৃক পাতা নৌমাইন অপসারণ করে নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা।
মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই পদক্ষেপকে একটি “টার্নিং পয়েন্ট” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিগগিরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পথ উন্মুক্ত করা হবে।
তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কোনো বিদেশি জাহাজের চলাচল তাদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সম্ভব নয়। তারা সতর্ক করে দিয়েছে—অননুমোদিত প্রবেশের ক্ষেত্রে “কঠোর প্রতিক্রিয়া” জানানো হবে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন এই প্রণালীর মাধ্যমে হয়, ফলে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসলামাবাদ-এ চলছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সরাসরি আলোচনা, যেখানে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার চেষ্টা চলছে। আলোচনায় অন্যতম প্রধান ইস্যু হচ্ছে এই প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ।
ইরান দাবি করছে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের অংশ হিসেবে তারা প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপ করতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে কোনো শান্তি চুক্তিই কার্যকর হবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ ও আলোচনার ফলাফল যাই হোক, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই “জয়ী” হয়েছে। তবে বাস্তবে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে, বিশেষ করে আস্থা সংকট ও কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে।
সব মিলিয়ে, সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনা একসঙ্গে চলায় পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত ও জটিল রয়ে গেছে।
















