ইরানে যুদ্ধবিরতির ফলে দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো গভীর সংকটে রয়েছে।
রাজধানী তেহরান-এর ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারে দোকানপাট আগের তুলনায় বেশি সময় খোলা থাকছে এবং মানুষের আনাগোনাও কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি এখনো খুবই কম।
একজন ব্যবসায়ীর ভাষায়, “বাজার প্রায় স্থবির।” তিনি জানান, পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, আর ভবিষ্যতে আমদানি কবে হবে বা কত দামে হবে, তা অনিশ্চিত।
যুদ্ধের পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ থাকাও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অনলাইন ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ গ্রাহকরা ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন না।
একজন অনলাইন শিক্ষক বলেন, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে না পারায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থায় কাজ করতে হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও মানের দিক থেকে দুর্বল।
সরকার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতা চালু রেখেছে, যদিও আগে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে যুদ্ধের কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—ইস্পাত কারখানা, তেল-গ্যাস স্থাপনা, বিমানবন্দর, সেতু ও রেলপথ—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুনর্গঠনে বহু বছর সময় লাগতে পারে।
অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র করেছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং ধারাবাহিক সংঘাত। বিভিন্ন খাতে ছাঁটাই চলছে—গাড়ি শিল্প, প্রযুক্তি খাত ও গণমাধ্যমেও কর্মসংস্থান কমছে।
অনেকেই তাদের সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও ইরানের অর্থনীতি এখনো গভীর অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে রয়েছে।
















